বাংলাদেশিদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের একটি চাহিদা সম্পন্ন শ্রম বাজার হলো কুয়েত। প্রায় সাড়ে ৪৮ লক্ষ জনসংখ্যার দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের পছন্দের শীর্ষ থাকা দেশ গুলোর মধ্যে একটি। তাই বর্তমানে যারা কুয়েত যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন কিংবা যারা অনেক দিন হলো গেছে কুয়েতের ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দিছেন তাদের কাছে অন্যতম একটি হলো কুয়েত ভিসা বন্ধ না খোলা? ৬ মাস ১ বছরেও ভিসা না হওয়া বা বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন রকম তথ্য পাওয়ার কারণে অনেকেই বিষটি নিয়ে কনফিউশনের মধ্যে পড়ে গেছেন। যার প্রেক্ষিতে এই আলোচনায় আমরা কুয়েত ভিসা বন্ধ না খোলা? এবং কুয়েত ভিসার সর্বশেষ আপডেট সম্পর্কে আপনাদের একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
আরও পড়ুন: ওমান ভিসা কবে খুলবে 2025
কুয়েত ভিসা বন্ধ না খোলা?
মধ্যপ্রাচ্যের GCC ভুক্ত একটি দেশ হলো কুয়েত। বিগত বছর গুলোতে বেশ উল্লেখ যোগ্য পরিমানে বাংলাদেশি কুয়েত গিয়েছে। এবং সম্প্রতি সময়েও অনেকে কুয়েত যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যার প্রেক্ষিতে এখনো অনেকে বিভিন্ন এজেন্সি বা দালালের নিকট পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন।
কিন্তু ৬ মাস ১ বছর পার হয়ে গেলেও ভিসা হচ্ছে না। আবার সম্প্রতি সময়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেভাবে বাংলাদেশিদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে তাতে দীর্ঘ সময়ে ভিসা না পাওয়ায় অনেকের মনে সন্দেহের দানা বাধছে যে হয়তো কুয়েতও বাংলাদেশিদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে৷
আরও পড়ুন: মালদ্বীপ ভিসা কবে খুলবে ২০২৫
কুয়েত বাংলাদেশেদের ভিসা দেওয়া বন্ধ করেছে এমন মনে হওয়ার আর একটি কারণ হলো অনেক এজেন্সি বা দালাল পাসপোর্ট জমা নিচ্ছে না। কিংবা সব সময় পাসপোর্ট জমা দেওয়া যাচ্ছে না৷ তবে সে কারণেই মনে সন্দেহের অবকাশ হোক না কেন সত্য হচ্ছে কুয়েতের ভিসা খোলা রয়েছে৷
বাংলাদেশিদের জন্য কুয়েতের ভিসা বন্ধ হয়নি। আগের মতই লামানা পারমিট সাপেক্ষে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন ফ্লাইটও হচ্ছে। এবং প্রতিদিন অল্প পরিমাণে লোক বিভিন্ন ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে কুয়েতও যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় ভিসা কবে চালু হবে ২০২৫
ভিসা না হওয়ার কারণ:
অনেকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করার পরও ভিসা না পাওয়ার করণে ধারণা করছেন যে কুয়েতের ভিসা হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে। তবে বিষয়টি মোটেও এমন নয়। কারণ কুয়েতের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে যদি খোঁজ খবর রাখেন তাহলে কেন ভিসা হচ্ছে না তার উত্তর পেয়ে যাবে।
আপনি পাসপোর্ট জমা দিলেই যে ভিসা পেয়ে যাবেন বিষয় এমনও নয়। কারণ কুয়েতের জনসংখ্যা খুবই কম। সে কারণে সে দেশে শ্রমিকের চাহিদাও কম। যার ফলে দেখা যাচ্ছে ১০০ ভিসার বিপরীতে ১০০০ জন আবেদন করছে।
আরও পড়ুন: দুবাই ভিসা কবে খুলবে ২০২৫
ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা যেখানে ১০০ টি সেখানে ১০০০ জন আবেদন করলে সকলে ভিসা পাবেনা এটাই স্বাভাবিক। যার ফলে ১০০ জন ভিসা পাওয়ার পর বাকি ৯০০ জন কে অপেক্ষা করতে হয়। পরবর্তীতে আবার লোকবলের প্রয়োজন হলে সে ৯০০ জনের মধ্যে থেকে কিছু লোককে ভিসা দেওয়া হয়।
কুয়েতের ভিসা দেওয়ার সিস্টেমটা মূলত এভাবেই চলতেছে। আর এ কারণেই মূলত কুয়েতের ভিসা পেতে কারো ৩ মাস, কারো ৬ মাস কারো ১ বছর সময় লাগতেছে। কুয়েতের ভিসা বর্তমানে পুরোপুরি ভাগ্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে।
ভাগ্য ভালো হলে কেউ ৬ মাসের মধ্যে ভিসা পায়। আর ভাগ্য খারাপ হলে কারো দেড় বছরও লাগে। তবে ভালো কোন এজেন্সির কাছে পাসপোর্ট জমা দিলে আশা করা যায় তুলনামূলক দ্রুতই কুয়েতের ভিসা পাওয়া সম্ভব।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া ভিসা কবে খুলবে ২০২৫
কোন কোন ভিসা খোলা রয়েছে?
বাংলাদেশ থেকে মূলত ২০ নম্বর খাদেম ভিসা এবং ১৮ নম্বর শোন কোম্পানি ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিরা কুয়েত গিয়ে থাকেন। এই দুই ধরনের কুয়েত ভিসার আবার অনেক শ্রেনী বিভাগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কিছু সুবিধা অসুবিধাও রয়েছে৷
যেমন খাদেম ভিসায় কপিল/মালিকের অনুমতি নিয়ে অন্য জায়গায় কাজ করার সুযোগ থাকলেও অনেক শোন ভিসায় এই সুযোগটি পাওয়া যায় না। আবার শোন ভিসারই আহালি নামে যে ধরনটি রয়েছে, এই ভিসায় নিজের পছন্দ মতো কাজ ও কোম্পানিতে পরিবর্তন করা যায়।
বর্তমানে কুয়েতে গৃহকর্মী, ড্রাইভার এবং বাবুর্চি এই ধরনের কাজ গুলোর জন্য খাদেম ভিসা দেওয়া হচ্ছে। শোন ভিসা মধ্যে দেওয়া হচ্ছে, বাগানে কৃষি কাজের জন্য মাজরা শোন ভিসা, বিভিন্ন অফিস, আদালত, মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, রাস্তাঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে দেওয়া হচ্ছে আখুদ হুকুমা ভিসা।
পশু পাখির খামারের কাজের জন্য দেওয়া হচ্ছে রায় গানাম শোন ভিসা। ছোট ছোট কোম্পানি গুলোর জন্য দেওয়া হচ্ছে মাসুরা সাগীরা ভিসা এবং কারখানার কাজের জন্য দেওয়া হচ্ছে মাসনা শোন ভিসা। এছাড়াও শোন আহালি নামক ফ্রি ভিসাও বর্তমানে দেওয়া হচ্ছে।
বলতে গেলে বর্তমানে সব ধরনের ভিসাই দিচ্ছে কুয়েত। তবে সে গতিটা অনেক স্লো। যার কারণ উপরে আমরা উল্লেখ করেছি। যার ফলে বর্তমানে কুয়েত যেতে অনেক টাকা লাগলেও ভিসার পাওয়ার জন্য কম করে হলেও ৬ মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে৷
আরও পড়ুন: গ্রীস ভিসা আপডেট ২০২৫
শেষ কথা:
করোনা মহামারির পর থেকেই কুয়েতে কিছুটা অর্থনৈতিক মন্দা যাচ্ছে। যার ফলে সেদেশে নতুন কর্ম সংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক ভাবে আগের তুলনায় কিছুটা কম। যার ফলে দেখা যাচ্ছে যারা শোন আহালি ভিসায় কুয়েত যাচ্ছে তারা সেখানে গিয়ে কাজ পাচ্ছেনা। এমনকি বিভিন্ন জনকে কাজের অনুরোধ করেও কাজ হচ্ছে না। তাই সব মিলিয়ে ভিসা দেওয়ার গতি স্লো রয়েছে। তবে এটি নিয়ে উদ্বীগ্ন হওয়ার কিছু নেই। পাসপোর্ট জমা দিলে কিছুটা সময় লাগলেও ইনশাল্লাহ এক সময় ভিসা পাবেন। কুয়েত ভিসা বন্ধ না খোলা এ নিয়ে এই ছিল আজকের আলোচনা। আশা করি কুয়েত ভিসা আপডেট ২০২৫ সম্পর্কে আপনাদের একটি স্পষ্ট ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি।