ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনজেন ভুক্ত ছোট্ট একটি দ্বীপ রাষ্ট্র হলো মাল্টা। ভিসা রেশিও ভালো হাওয়ায় সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই উচ্চ শিক্ষা এবং কাজের জন্য মাল্টা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যে কারণে অনেকেই কোন এজেন্সি বা দালালের সাথে যোগাযোগ পূর্বে মাল্টা যাওয়ার এক্সেক্ট খরচ কত সে সম্পর্কে একটি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এই প্রেক্ষিতেই এই আলোচনায় আমরা ২০২৫ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় এবং ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে তা নিয়ে আপনাদের একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো।
আরও পড়ুন:
মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে:
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়া কাজের বেতন ২০২৫
স্টুডেন্ট ভিসায় খরচ:
মাল্টায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকেই কোন এজেন্সির সাহায্য না নিয়ে নিজে নিজে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করেন। যে কারণে স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ধাপে কত টাকা লাগে তা সেভাবেই বলার চেষ্টা করবো।
স্টুডেন্ট ভিসা ক্ষেত্রে খরচটা মূলত দুই পর্বে হয়ে থাকে। প্রথমটি হলো ভিসার পূর্বের খরচ দ্বিতীয়টি হলো ভিসার পরের খরচ। ভিসার পূর্বে প্রথম খরচ লাগবে এপ্লিকেশন ফিতে। মাল্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলোতে আবেদন করার জন্য আপনাকে ১০০ - ২০০ ইউরো খরচ করতে হবে৷ বর্তমান ইউরো রেট অনুযায়ী বাংলা টাকায় যা আসবে প্রায় ১৩ হাজার টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকার।
যদিও পূর্বে এই আবেদন ফি দেওয়া লাগতো না। কিন্তু মাল্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ গুলো যখন জানতে পেরেছে যে বাংলাদেশের এজেন্সি গুলো এপ্লিকেশন ফি বাবদ একটি ভালো এমাউন্টে টাকা চার্জ করে তখন থেকে তারাও এপ্লিকেশন ফি বাবদ এই টাকা ধার্য করা শুরু করেছে।
আরও পড়ুন: এস্তোনিয়া কেমন দেশ ২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে আবেদনে পর ঐ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে থেকে অফার লেটার পাওয়ার পর ইউনিভার্সিটি আপনার জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত VFS গ্লোবালে একটি এপোয়েন্টমেন্ট বুক দিবে। আপনাকে আর কষ্ট করে VFS গ্লোবালে এপোয়েন্টমেন্ট নিতে হবে না। এর জন্য আপনাকে ১৫০ ইউরোর একটি CVU পেমেন্ট করতে হবে। বাংলা টাকায় যা মোটামুটি ২০ হাজার টাকা।
বর্তমানে মাল্টায় স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য হেলথ ইন্সুইরেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হেলথ ইন্সুইরেন্স না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে আপনার ভিসা আবেদন রিজেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই VFS গ্লোবাল ফেস করার পূর্বেই আপনাকে একটি হেলথ ইন্সুইরেন্স করতে হবে। যার জন্য মোটামুটি ২০ হাজার টাকার মত খরচ হবে।
এগুলো সাথে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে জিনিসটির প্রয়োজন হবে সেটি হলো ব্যাংক স্টেটমেন্ট। আপনার যদি ব্যাংকে পর্যাপ্ত পরিমান টাকা থাকে তাহলে ইজিলি আপনি এটি পেয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাংকে যদি আপনার পর্যাপ্ত পরিমানে টাকা না থাকে তাহলে বেসরকারি কোন ব্যাংক থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিনতে হবে। তার জন্য মোটামুটি ১০ হাজার টাকা মত খরচ হবে।
আরও পড়ুন: হাঙ্গেরি যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫
সর্বশেষ VFS গ্লোবালে ফেস করার সময় ফিজিক্যালি বাংলা টাকায় আরো ১৬-১৮ হাজার টাকা তাদের জমা দিতে হবে। মোটামুটি ভিসা আবেদনের পূর্বে এই হচ্ছে বড় বড় খরচ। সব মিলিয়ে বলতে গেলে vfs গ্লোবাস ফেস করার পর্যন্ত মোটামুটি ১ লাখ টাকার মত খরচ হবে।
এখন আসি টিউশন ফির বিষয়ে। টিউশন ফি মূলত আপনাকে ভিসা হওয়ার পর পরিশোধ করতে হবে৷ এটি হচ্ছে ভিসা হওয়ার পরের খরচ। টিউশন ফি মূলত কোর্স এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে। তাই কোর্স এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে টিউশন ফির ভালো রকমের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
তবে কোর্স এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভেদে এক বছরের টিউশন ফি মোটামুটি ৫ হাজার ইউরো থেকে ৮ হাজার ইউরো পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাংলা টাকায় যা প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা থেকে ১০ লক্ষ টাকা৷ এয়ার টিকিট এবং আপনার ব্যক্তিগত খরচ বাদে মোটামুটি স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আপনার ১০ লক্ষ থেকে ১২ লক্ষ টাকার মত লাগবে।
আরও পড়ুন: তুর্কি সাইপ্রাস কেমন দেশ
ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় খরচ:
মাল্টায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাওয়ার জন্য আপনাকে সর্ব প্রথম মাল্টার কোন কোম্পানি থেকে কাজের অফার লেটার নিতে হবে। আপনার যদি কোন কাজে ভালো দক্ষতা থাকে এবং আপনি যদি ভালো ইংলিশ জানেন তাহলে নিজে নিজেই আপনি কাজের অফার লেটার সংগ্রহ করতে পারবেন।
তবে এই বিষয়ে আপিনার যদি জানাশোনা কম থাকে তাহলে আপনাকে কোন এজেন্সির সাহায্য নিতে হবে। মাল্টায় নিজে নিজে কাজের অফার লেটার নিয়ে ভিসার আবেদন করেও যাওয়া যায় আবার এজেন্সির মাধ্যমেও ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যাওয়া যায়।
ভিসার আবেদন সহ সকল কাজ নিজে নিজে করে মাল্টায় গেলে অনেক কম টাকায় মাল্টা যাওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে আপনার যদি মাল্টায় পরিচিত কেউ থাকে কিংবা ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে আপনার ভালো জানা শোনা থাকে তাহলে আপনি ৬ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ টাকা দিয়েই মাল্টা যেতে পারবেন।
আরও পড়ুন: সার্বিয়া যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫
কিন্তু আপনার যদি পরিচিত বা ভালো জানা শোনা না থাকে তাহলে আপনাকে মাল্টায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যাওয়ার জন্য কোন এজেন্সি বা দালালের সাহায্য নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনার খরচ লাগবে মোটামুটি ১২ লক্ষ থেকে ১৪ লক্ষ টাকা।
আর আপনি এবং এজেন্সির মধ্যে যদি দালালের সংখ্যা বেশি হয়। তাহলে এই খরচ আরো বেশি হতে পারে। তাই মাল্টা হোক বা অন্য দেশ যেখানেই যান না কেন ভিসার জন্য দালাল না ধরে সরাসরি এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবেন। এতে আপনার খরচ বহুলাংশে কমে যাবে।
শেষ কথা:
পরিশেষে বলবো উচ্চ শিক্ষা বা কাজ যে উদ্দেশ্যেই মাল্টা যান না কেন সব সময় চেষ্টা করবেন বিশ্বস্থ কোন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করার। আর কোন এজেন্সি একটি একাউন্ট বললে সাথে সাথে তার সাথে ঐ এমাউন্টে চুক্তি বদ্ধ না হয়ে চেষ্টা করবেন কয়েকটি এজেন্সি থেকে খরচের একটি ধারণা নেওয়ার। আর সব সময় ডিড সই করে চুক্তি করার চেষ্টা করবেন। মাল্টা যেতে কত টাকা লাগে এ নিয়ে এই ছিলো মোটামুটি আমাদের আলোচনা। আশা করছি এ সম্পর্কে আপনাদের একটি সঠিক ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছি।