এস্তোনিয়া ইউরোপের অন্যতম উন্নত রাষ্ট্র হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে অনেকেই এস্তোনিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। যার কারণে তারা এস্তোনিয়া দেশ কেমন? এস্তোনিয়া সেনজেন ভুক্ত দেশ কিনা? এস্তোনিয়ায় কোন কাজের চাহিদা বেশি, ভিসা রেশিও ইত্যাদি বিষয়ে জানার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু তারা এস্তোনিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পরেন। আর সেকারণে এই আলোচনায় আমরা বিভিন্ন নির্ভরশীল সোর্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে এস্তোনিয়া দেশ কেমন? এস্তোনিয়া কি সেনজেন দেশ এই নিয়ে একটি বস্তুনিষ্ঠ আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
আরও পড়ুন:
এস্তোনিয়া কি সেনজেন ভুক্ত?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম একটি দেশ হলো এস্তোনিয়া। এস্তোনিয়া পূর্বে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯১ সালে এস্তোনিয়ার স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি দ্রুত সাম্যবাদী প্রতিষ্ঠান গুলো বিলুপ্ত করে পুঁজিবাদী এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতির দেশে পরিনত হয়।
যার প্রেক্ষিতে এস্তোনিয়ান সরকার ১৬ এপ্রিল ২০০৩ তারিখে শেনজেন চুক্তি স্বাক্ষর করে সেনজেন দেশে পরিনত হয়। এবং এর পরের বছরই ২০০৪ সালের ১লা মে এস্তোনিয়া পুরোপুরি ভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।
আরও পড়ুন: গ্রিস সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫
এস্তোনিয়া দেশ কেমন?
ই-কান্ট্রি নামে পরিচিত ইউরোপের বাল্টিক অঞ্চলের একটি দেশ হলো এস্তোনিয়া। দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য ভুক্ত উন্নত দেশ গুলোর মধ্যে একটি৷ সেন্ট্রাল ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালির পরপরই যদি কোন দেশকে বিবেচনা করা হয় তাহলে সেটি হলো এস্তোনিয়া।
সে কারণে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অন্যতম একটি সেরা দেশ হলো এস্তোনিয়া। তবে সার্বিয়া, আলবেনিয়া, ক্রোয়েশিয়ার মত চাইলেই আপনি সহজে এস্তোনিয়া যাওয়া যায় না। সেন্ট্রাল ইউরোপের দেশ গুলোর মত এস্তোনিয়া যাওয়াও বেশ কঠিন৷
আরও পড়ুন: তুর্কি সাইপ্রাস দেশ কেমন ২০২৫
কাদের জন্য এস্তোনিয়া:
তথ্য প্রযুক্তি খাতে বেশ এডভান্স একটি দেশ হলো এস্তোনিয়া। এস্তোনিয়াই পৃথিবীর সর্বপ্রথম দেশ যারা তাদের সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সিস্টেম পর্যন্ত অনলাইনে রুপান্তর করে ফেলেছে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে বেশ এডভান্স হওয়ার কারণে দেশটিতে আইটি এবং হাইটেক শিল্পে ব্যাপক কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
এই কারণে আইটি এবং সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট, ডাটা সাইন্স, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং সহ আইটি রিলেটেড খাতে দক্ষ বাংলাদেশিদের জন্য এস্তোনিয়ায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। অন্যান্য খাতেও বাংলাদেশিদের জন্য বেশ ভালো সুযোগ থাকলেও তথ্য প্রযুক্তি খাতে চাহিদা বেশি।
তবে আইটি, তথ্য প্রযুক্তি সহ অন্যান্য যে কোন খাতেই এস্তোনিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেন না কেন তার জন্য আপনাকে অবশ্যই অবশ্যই উক্ত সেক্টর দক্ষ হতে হবে৷ নরমাল অদক্ষ কাজে এস্তোনিয়া আসা খুবই টাফ। আপনার দক্ষতা থাকলে কোন এজেন্সি ছাড়াই আপনি ভিসা নিয়ে এস্তোনিয়ে যেতে পারবেন।
কিন্তু বাংলাদেশিদের সমস্যা এই জায়গাতেই। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করার মত দক্ষ জনশক্তি সংখ্যা খুবই কম৷ যার ফলে এস্তোনিয়ায় যাওয়ার অপার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর খুব অল্প পরিমানে লোকই এস্তোনিয়া যেতে পারেন।
আরও পড়ুন: হাঙ্গেরি যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫
এস্তোনিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি:
শুধু বাংলাদেশ নয় তৃতীয় বিশ্বের যে কোন দেশের দক্ষ এবং পেশাদার ব্যক্তিদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দেশ হলো এস্তোনিয়া। বর্তমানে এস্তোনিয়ায় তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ব্যাপক। যার কারণে স্বভাবতই দেশটিতে তথ্য প্রযুক্তি খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা খুব বেশি। এছাড়াও মোটা দাগে বর্তমানে এস্তোনিয়ায় যেসব কাজের চাহিদা বেশি সেগুলো হলো:-
- আইটি এবং সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট।
- ডাটা সাইন্স, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ারিং।
- প্রকৌশল এবং ম্যানুফ্যাকচারিং।
- হেলথ কেয়ার।
- ইন্সট্রাকশন ইত্যাদি।
তবে এখানে উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হলো এস্তোনিয়ায় যে খাতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন না কেন আপনাকে অবশ্যই ভালো ইংরেজি জানতে হবে। ভালো ইংরেজি জানা ছাড়া এস্তোনিয়া যাওয়া খুবই কঠিন। কারণ আপনি যখন জব অফার লেটারের জন্য এস্তোনিয়ার কোন কোম্পানিতে আবেদন করবেন তখন তারা ইংলিশেই আপনার ভাইভা নিবে।
আর ভাইভাতে আপনার যোগ্যতা এবং দক্ষতা যাচাইয়ের পর তারা আপনার সাথে জবের জন্য কন্টাক্ট করবে। আর একটি বিষয় হলো শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে অন্তত গ্রেজুয়েশন বা অনার্স ডিগ্রি থাকতে হবে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে চাকরির অফার পাওয়ার জন্য হেল্পফুল।
এস্তোনিয়া বেতন কত?
এস্তোনিয়ায় সর্বনিম্ন বেতন হলো ৮১০ ইউরো। অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা৷ এটি হচ্ছে এস্তোনিয়া যেকোনো খাতের সর্বনিম্ন বেতন৷ তবে আলাদা আলাদা খাতে বেতন কাঠামো আলাদা আলাদা হয়ে থাকে৷ যেমন:-
- আইটি এবং সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট খাতে মাসিক বেতন হচ্ছে ১৫০০ ইউরো থেকে ২০০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা৷
- ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যানুফেকচারিং খাতেও বেতন প্রায় একই। অর্থাৎ ১৫০০ ইউরো থেকে ২০০০ ইউরো।
- হেলথ কেয়ার খাতে মাসিক বেতন ১২০০ ইউরো থেকে ২০০০ ইউরো৷ বাংলাদেশি টাকায় যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা৷
- ইন্সট্রাকশন খাতে মাসিক বেতন হচ্ছে ১০০০ ইউরো থেকে ১৮০০ ইউরো। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা থেকে ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা৷
এখানে উল্লেখ্য যে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তি এই বেতন আরো বেশি হতে পারে। যা বাৎসরিক প্রায় ২৫ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে৷
আরও পড়ুন: হাঙ্গেরি বেতন কত ২০২৫
এস্তোনিয়া ভিসা রেশিও:
এস্তোনিয়ার ভিসা রেশিও বেশ চমৎকার। তবে তার জন্য অবশ্যই আপনাকে দক্ষ এবং ভালো ইংরেজি জানা থাকতে হবে৷ দক্ষতা এবং ভালো ইংরেজি জানাদের ক্ষেত্রে ভিসা রেশিও মোটামুটি ৯৮% অর্থাৎ খুব কমই ভিসা রিজেক্ট হয়। আর যেহেতু দক্ষ কর্মী ছাড়া তারা ভিসা ইস্যু করতে চায়না সে কারণে দেখা যায় সারা বছরে ভিসার জন্য আবেদন করে ১০০ জনের মত৷ যার কারণে ভিসা রেশিও এত বেশি।
আর ইউরোপের অন্যান্য দেশে দক্ষ, অদক্ষ, ইংরেজি জানা নাজানা সকলেই আবেদন করে। তাই সে দেশ গুলোতে ভিসার আবেদনও যেমন অনেক বেশি তেমনি ভিসা রেশিও অনেক কম।
শেষ কথা:
আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট খাতে বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি খাতে দক্ষ হোন তাহলে খুব অল্প সময়েই ভিসা প্রসেসিং সম্পূর্ণ করে এস্তোনিয়া যেতে পারবেন। একটু সচেতন হলে এর জন্য কোন এজেন্সির কাছেও যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। নিজে নিজেই জব অফার লেটার ম্যানেজ করে ডি ভিসা বা ডি ক্যাটাগরি ভিসা নিয়ে এস্তোনিয়া যেতে পারবেন। আর এর জন্য লক্ষ লক্ষ টাকারও প্রয়োজন নেই৷ এস্তোনিয়া দেশ কেমন? এস্তোনিয়া কি সেনজেন ভুক্ত দেশ কিনা তা নিয়ে এই ছিল মোটামুটি আলোচনা। ধৈর্য সহকারে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ।