MrJazsohanisharma

কানাডা যাওয়ার খরচ কত ও যাওয়ার প্রক্রিয়া ২০২৫

This Template Designed By E10Script

কানাডা উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। কানাডা G-7 ভুক্ত একটি দেশ। অর্থাৎ পৃথিবীর উন্নত দেশ গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে কানাডা। শান্তির দেশ মনে করা হয় কানাডাকে। কানাডার জীবনমান এবং কর্মপরিবেশ বেশ উন্নত। যে কারণে বাংলাদেশিদের মধ্যে কানাডা যাওয়ার প্রবনতা বেশ ভালো রকম লক্ষ্য করা যায়। তবে চাইলেই বাংলাদেশ থেকে সহজে কানাডা যাওয়া যায় না। পৃথিবীর উন্নত দেশ হওয়ায় কানাডা যাওয়া তুলনামূলক কিছুটা কঠিন। তবে এটি আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় নয়। আমাদের আজকের আলোচ্য বিষয় হলো কানাডা যাওয়ার খরচ কত। চলুন তাহলে কথা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক। 

আরও পড়ুন: গ্রিক সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫

কানাডা যাওয়ার খরচ কত

কানাডা যাওয়ার খরচ কত? 

উত্তর আমেরিকার দেশ কানাডায় যাওয়ার বেশ কিছু উপায় রয়েছে। কেউ স্টুডেন্ট ভিসায় কানাডা যান, কেউ টুরিস্ট ভিসায় কেউ বা ওয়ার্ক ভিসায়। প্রতিটি ভিসায় কানাডা যাওয়ার আলাদা আলাদা প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে এই পোস্টে আমাদের লক্ষ্য থাকবে ওয়ার্ক ভিসায় কানাডা যেতে কত খরচ লাগবে তার উপর আলোচনা করার। 

আপনি যদি ওয়ার্ক ভিসায় কানাডা যেতে চান তাহলে এজেন্সির সাহায্য নিয়ে কিংবা নিজে নিজে ভিসার আবেদন করেও কানাডা যেতে পারবেন। যদি নিজে নিজে কানাডা যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তাহলে এক ধরনের খরচ আসবে আবার যদি এজেন্সির মাধ্যমে কানাডা যেতে চান তাহলে আর এক ধরনের খরচ আসবে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়া কি সেনজেন হবে

জব অফার লেটার সংগ্রহ:

আপনি যদি নিজে নিজে কানাডা যাওয়ার পরিকল্পনা করেন তাহলে সর্ব প্রথম আপনাকে কানাডার কোন একটি কোম্পানিতে LMIA জব ম্যানেজ করতে হবে। আর তার জন্য আপনাকে কানাডার অনলাইন জব পোর্টাল গুলোর মাধ্যমে আবেদন করে কোন কোম্পানি থেকে জব অফার লেটার নিয়ে আসতে হবে। কেবলমাত্র অফার লেটার পাওয়ার পরই কানাডার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। 

ওয়ার্ক পারমিট/ভিসা বাবদ খরচ:

কানাডা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ

ধরে নিলাম আপনি কানাডার কোন কোম্পানিতে একটি জব পেয়ে গেছেন। এখন আপনাকে কানাডায় ঢোকার জন্য ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার জন্য আবেদন কর‍তে হবে। কানাডার ভিসার আবেদন সম্পর্কে আপনি যদি অভিজ্ঞ হোন আপনি নিজে নিজেই ভিসার আবেদন করতে পারেন। এই ক্ষেত্রে আপনার খরচ অনেক কমে আসবে। আর যদি এ বিষয় আপনার তেমন জানা শোনা না থাকে তাহলে ভিসার জন্য আপনি RCIC লয়ার বা এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন৷ 

কানাডা যাওয়ার খরচ মূলত এখান থেকেই শুরু হবে। জব অফার পেতে আপনার কোন খরচ করতে হবে না। কিন্তু আপনি যখন ভিসার জন্য RCIC লয়ার বা এজেন্সির সাহায্য নিবেন তখন আপনাকে একটি মোটা অংকের টাকা খরচ করতে হবে। আপনি যদি ভিসার জন্য RCIC লয়ার হায়ার করেন তাহলে আপনার খরচ আসবে মোটামুটি ২ হাজার থেকে ৪ হাজার ডলার। অর্থাৎ বাংলা টাকায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা থেকে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আনুসাঙ্গিক আরো ৫০ হাজার খরচ ধরে রাখেন। তাহলে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত আপনার খরচ দাঁড়ালো মোটামুটি ৩ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা। 

আরও পড়ুন: পোল্যান্ড যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫

কেনাকাটা বাবদ খরচ:

এখন যেহেতু ভিসা হয়ে গেছে আপনার সেহেতু আপনাকে এখন কানাডা যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। যার জন্য আপনাকে জামা কাপড় থেকে শুরু করে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুলো কিনতে হবে। কেনাকাটা বাবদ খরচটা নির্ভর করবে মূলত আপনি কি ধরনের কেনাকাটা করছেন তার উপর। কেউ ৫০ হাজার টাকারও কেনাকাটা করে আবার কেউ ১ লক্ষ টাকারও কেনাকাটা করে। এটা মূলত ম্যান টু ম্যান ভেরি করে। আপনি যদি ৫০ হাজার টাকার কেনাকাটা করেন তাহলে এখন অব্দি খরচ দাঁড়াবে ৩.৫ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা। আর যদি ১ লক্ষ টাকার কেনাকাটা করেন তাহলে খরচ দাঁড়াবে ৪.৫ লাখ থেকে ৫.৫ লাখ টাকা।

বিমান ভাড়া:

এবার আসি এয়ার টিকিট নিয়ে। কারণ শুধু ভিসা পেয়ে কেনাকাটা করে রাখলেই তো হবে না আপনাকে কানাডায়ও তো যেতে হবে। বর্তমানে কানাডা সহ সব দেশের এয়ার টিকিটের দাম অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি। যার কারণে কানাডা যেতে বিমান ভাড়া বাবদ আপনার খরচ হবে প্রায় ২ লক্ষ টাকা থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা। তাহলে ভিসা আপ্লিকেশন থেকে শুরু করে কানাডা পৌঁছানো পর্যন্ত আপনার খরচ আসলো ৬.৫ লক্ষ টাকা থেকে ৮ লক্ষ টাকা। আমরা মূলত এখানে মোটামুটি একটি ফিগার ধরার চেষ্টা করে। বাস্তবে এটি পরিবেশ পরিস্থিতির উপর কিছুটা কম বেশি হতে পারে। 

এজেন্সির মাধ্যমে খরচ:

আপনার যদি চাকরির অফার লেটার, ভিসা প্রসেসিং, এয়ার টিকিট ইত্যাদি সম্পর্কে জানাশোনা কম থাকে বা আপনি যদি এসব ঝামেলা এড়িয়ে কানাডা যেতে চান তাহলে আপনাকে সরকার নিবন্ধিত কোন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে হবে। যে এজেন্সি গুলো কানাডাতে লোক পাঠায় এমন কোন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করলে তারা জব অফার থেকে শুরু করে, ভিসা প্রসেসিং এবং এয়ার টিকিট যাবোতীয় সব কিছু তারাই ম্যানেজ করে দিবে। আপনি শুধু তাদের টাকা এবং প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সরবরাহ করবেন। 

আপনি যদি এভাবে এজেন্সির মাধ্যমে কানাডা যেতে চান তাহলে এজেন্সি গুলো আপনার কাজ থেকে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা চার্জ করবে। আর আপনি যদি সরাসরি এজেন্সির সাথে যোগাযোগ না করে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন তাহলে আপনার খচর আরো ১ লক্ষ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা বেশি হতে পারে। 

আরও পড়ুন: গ্রিক সাইপ্রাস যেতে কত টাকা লাগে ২০২৫

শেষ কথা:

কানাডা সহ পৃথিবীর সকল দেশের যাওয়ার খরচ মূলত নির্ভর করে ভিসা প্রসেসিং সম্পর্কে আপনার কেমন জানাশোনা আছে তার উপর। মূলত এইসব বিষয়ে জানাশোনা থাকলে আপনি অনেক ক্ষেত্রেই অনেক টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন। আর না জানাশোনা না থাকার কারণে এজেন্সি বা দালাল যেভাবে খরচ দেখিয়ে টাকা দাবী করবে আপনাকেও অন্ধের মত সেভাবে টাকা দিতে হবে। কানাডা যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই কথা গুলো প্রযোজ্য। আপনার যদি এই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান থাকে তাহলে এজেন্সির চেয়ে অনেক কম টাকায় আপনি কানাডা যেতে পারবেন। কানাডা যাওয়ার খরচ কত ২০২৫ নিয়ে এই ছিলো আমাদের আলোচনা।

Sazzadul Islam

আমি সাজ্জাদুল ইসলাম৷ দীর্ঘ সময় থেকে পাসপোর্ট, ভিসা এবং প্রবাসীদের নিয়ে কাজ করছি৷ সে অভিজ্ঞতার আলোকে এখানে নিয়মিত পাসপোর্ট, ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমসাময়িক তথ্য ও আপডেট দেওয়ার চেষ্টা করি।

Post a Comment

Previous Post Next Post
This Template Designed By E10Script