বর্তমানে বাংলাদেশিরা কাজের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর অনেক দেশেই যাচ্ছেন। হোক সেটি এশিয়া বা ইউরোপ। সম্প্রতি বাংলাদেশিদের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হারে এশিয়ান দেশ কিরগিজস্তান লোকজন যাচ্ছে। তারা অনেকেই জেনে বুঝে যাচ্ছে আবার অনেকে দালালের চটকদার কথার ফাঁদে পরে সেখানে যাচ্ছেন বা যাওয়ার প্লান করছেন৷ তবে সেটা যেভাবেই হোক না কেন কাজ করার জন্য কিরগিজস্তান যাওয়ার আগে প্রত্যেকের কিরগিজস্তান সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা জরুরি। তাই এখানে আমরা বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কিরগিজস্তান দেশটি কেমন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।
আরও পড়ুন :
বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কিরগিজস্তান কেমন?
যদিও কিরগিজস্তান মধ্য এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ। তবে কিরগিজস্তানের শ্রমবাজারে খুব বেশি বড় নয়। যে কারণে নির্দিষ্ট কিছু সেক্টর বাদে সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের তেমন চাহিদা নেই বললেই। তবে অভিজ্ঞ শ্রমিকদের জন্য কিরগিজস্তানে একাধিক খাতে কাজ করার ভালো সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু নির্ধারিত কিছু সেক্টরে ছাড়া অনভিজ্ঞ এবং কম দক্ষতা শ্রমিকদের অবস্থা দালালের চটকদার কথা এবং বাস্তবতা মাঝে আকাশ পাতাল পার্থক্য। তবে যেহেতু কিরগিজস্তান দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ। তাই আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের জন্য একটি ভালো বাজারে পরিনত হতে পারে।
আরও পড়ুন: সার্বিয়া কি সেনজেন হবে
কিরগিজস্তান শ্রমবাজার:
কিরগিজস্তান মধ্য এশিয়ার অবস্থিত ছোট তবে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ । দেশেটির অর্থনীতি মূলত কৃষি, খনিজ সম্পদ, পর্যটন এবং সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিরগিজস্তানে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য বেশি কাজের সুযোগ রয়েছে গার্মেন্টস সেক্টরে।
এছাড়া নির্মাণ এবং কৃষি খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের খুব বেশি চাহিদা নেই বললেই চলে। এছাড়াও কার ওয়াশ, জুতা ফ্যাক্টরি, মোজা ফ্যাক্টরি, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, মালি, ক্লিনার, ড্রাইভার হাউস কিপার ইত্যাদি কাজে দালালদের চটকদার বেতনের কথা শুনলেও বাস্তবতা পুরাই উল্টো।
আরও পড়ুন: কিরগিজস্থান বেতন কত ২০২৫
বাস্তবে কিরগিজস্তানে এসব সেক্টরে কাজ নেই বললেই চলে। আর এই সেক্টর গুলোতে যে টুকু চাহিদা রয়েছে তাতেও অনেক মালিক ঠিকমত বেতন দেয় না। তাই গার্মেন্টসের কাজ জানা থাকলে গার্মেন্টসের কাজে কিরগিজস্তান আসুন। আর কাজ জানা না থাকলে অন্য কোন কাজে কিরগিজস্তান না আসায় ভালো।
কিরগিজস্তানের শ্রম বাজারের বর্তমান অবস্থা:
কিরগিজস্তানে কার ওয়াশ, বিস্কুট ফ্যাক্টরি হাবিজাবি এগুলো সব ভাওতাবাজি। কিরগিজস্তানে গুলাতে তেমন কাজ নাই বললেই চলে। আর কাজ হলেও ঠিকমত বেতন দেয়। যেকারণে দালালরা চটকদার অনেক কথা বললেও BMET কিরগিজস্তানে বর্তমানে কোন ম্যান পাওয়ার দেয় মা।
আর BMET ম্যান পাওয়ার দিবেই বা কি করে দালালরা এমন ভিসা বের করে যেগুলাতে কোম্পানির কোন নাম ঠিকানা থাকে না। যে কারণে BMET এইসব ভিসায় কোন ম্যান পাওয়ার দিতে পাতে না। ফলে তারা বডি কন্টাক্ট বা এয়ারপোর্ট কন্টাক্টের মাধ্যমে লোকদের কিরগিজস্তান ঢুকায়। তাছাড়া এজেন্সি গুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস বাদে অন্য কাজে ৫৯ দিনের ভিসা দিয়ে লোক পাঠায়।
কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর ৮০% ক্ষেত্রেই তারা নতুন করে আর ভিসা রেজিষ্ট্রেশন করে দেয় না। ফলে ৫৯ দিন পর ৮০% লোকই অবৈধ হয়ে যায়। যার সুযোগ নিয়ে কিরগিজস্তানের মালিকরা। তারা অবৈধ বাংলাদেশিদের পুরোপুরি জিম্মি করে ফেলে। যার বাংলাদেশি ভাইয়েরা তখন তাদের কথা মত কম টাকায় কাজ করতে বাধ্য হয়।
শেষ কথা:
ভবিষ্যতে কিরগিজস্তান হয়তো বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি গন্তব্য হতে পারে। তবে বর্তমানে কিরগিজস্তানে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক জেনে বুঝে, পরিচিত কারো মাধ্যমে যাওয়া উচিত। অন্যথায় বিপদ নিশ্চিত। এই ছিল বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য কিরগিজস্তান কেমন তা নিয়ে আলোচনা। আশা করি এখান থেকে আপনি কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছে।